আবদুর রশিদ, নাইক্ষ্যংছড়ি:
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের আলীক্ষ্যং এলাকার একটি রাবার বাগান থেকে অপহৃত ছয় রোহিঙ্গা শ্রমিক তিন দিন পর মুক্ত হয়েছেন। সোমবার (৬ জুলাই) সকালে পার্শ্ববর্তী লামা উপজেলার গয়ালমারা এলাকা থেকে তারা মুক্তি পান। এ ঘটনায় সীমান্তবর্তী এলাকায় শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, গত শুক্রবার (৩ জুলাই) গভীর রাতে আলীক্ষ্যং এলাকার কাওছার নামের এক বাগান মালিকের রাবার বাগানের স্টাফ কোয়ার্টারে অবস্থানরত জঙ্গল পরিষ্কারের কাজে নিয়োজিত ছয় রোহিঙ্গা শ্রমিককে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে অপহরণ করে নিয়ে যায়। ঘটনার পর থেকেই শ্রমিকদের স্বজন, বাগান কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, অপহরণের পর শ্রমিকদের মুক্তির জন্য অপহরণকারীরা দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরে আলোচনার মাধ্যমে দাবি করা অর্থ পরিশোধের পর সোমবার সকালে লামা উপজেলার গয়ালমারা এলাকায় শ্রমিকদের ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা প্রকাশ্যে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি।
অন্যদিকে, পুলিশের বক্তব্য ভিন্ন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার পরপরই সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়। পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানের চাপে অপহরণকারীরা শ্রমিকদের ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে বলে তাদের ধারণা।
রাবার বাগানের মালিক কাওছার জানান, অপহৃত শ্রমিকরা কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে জীবিকার সন্ধানে তার বাগানে কাজ করতে এসেছিলেন। তারা মাত্র একদিন আগে কাজে যোগ দেন। কিন্তু কাজ শুরুর পরদিন রাতেই সশস্ত্র ব্যক্তিরা স্টাফ কোয়ার্টার থেকে তাদের তুলে নিয়ে যায়। তিনি শ্রমিকদের নিরাপদে ফিরে আসায় স্বস্তি প্রকাশ করে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক বলেন, “অপহরণের ঘটনার পর থেকেই পুলিশের একাধিক টিম অভিযান পরিচালনা করছে। অপহরণকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে মামলা রুজু করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মুক্ত হওয়া ছয়জনই কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা। জীবিকার তাগিদে তারা নাইক্ষ্যংছড়ির আলীক্ষ্যং এলাকার ওই রাবার বাগানে জঙ্গল পরিষ্কারের কাজে নিয়োজিত ছিলেন।
এদিকে, সীমান্তবর্তী নাইক্ষ্যংছড়ি ও আশপাশের এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে অপহরণ, চাঁদাবাজি ও সশস্ত্র তৎপরতার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। এলাকাবাসী এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দুর্গম এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
